ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে এক স্কুলপড়ুয়া কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন মিলন মল্লিক (২৮) অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
রোববার রাতে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে পলাতক মিলনকে গ্রেফতার করে র্যাব। তিনি নিহত কিশোরীর বাবা মো. সজীবের খাবার হোটেলের কর্মচারী ছিলেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া এবং প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিলিকে হত্যা করেন মিলন।
র্যাব জানায়, গত শনিবার বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন বনশ্রীর এল-ব্লকে খিলগাঁও থানার আওতাধীন হোটেলমালিক সজীবের বাসায় প্রবেশ করেন। সে সময় বাসায় সজীবের বড় মেয়ে শোভা আক্তার ও ছোট মেয়ে নিলি উপস্থিত ছিল। বেলা ১টা ৪১ মিনিটে মিলন বাসা থেকে বের হন এবং একই সময়ে শোভাও জিমে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে যান। পরে বেলা ২টা ২৫ মিনিটে মিলন একা আবার বাসায় ঢোকেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে ২টা ৪৫ মিনিটে বেরিয়ে যান। এই সময়ের মধ্যেই নিলিকে হত্যা করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও খাবার দিতে গিয়ে একই প্রস্তাব দিলে নিলি তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিলন নাইলনের দড়ি নিয়ে বাসায় যান। একপর্যায়ে নিলির অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দড়ি দিয়ে তার গলা চেপে ধরেন। নিলি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো বঁটি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। পরে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শোভা জিম থেকে ফিরে বাসার ডাইনিং রুমের বেসিনের নিচে নিলিকে উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নিলিকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে গতকাল সকালে ময়নাতদন্ত শেষে খিলগাঁও থানা-পুলিশ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার মিলন মল্লিকের বাবার নাম সেকেন্দার মল্লিক। তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।









Leave a Reply