আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে দারুণ শুরুর পরও বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। তিন ব্যাটারের অর্ধশতকের সুবাদে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান করেছে টাইগাররা। তবে একের পর এক ব্যাটারের উইকেট বিলিয়ে দেওয়ায় দিন শেষে বড় ইনিংস না পাওয়ার আক্ষেপ রয়ে গেছে দলের।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দিনের শুরুতে তানজিদ হাসান তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। পরে সাদমান ইসলাম ও লিটন দাসও অর্ধশতক তুলে নেন। কিন্তু কেউই ইনিংসকে শতরানে রূপ দিতে পারেননি।
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮৪ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান। আবুধাবির এই মাঠে টেস্টের প্রথম দিনে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তানজিদ হাসান। আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ৪১ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। তাঁর সাবলীল ব্যাটিংয়ে দ্রুত এগিয়ে যায় বাংলাদেশের রান।
অন্য প্রান্তে সতর্ক ব্যাটিং করেন সাদমান ইসলাম। শুরুতে ব্যক্তিগত পাঁচ রানে জীবন পেলেও পরে ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন তিনি। দুই ওপেনারের ব্যাটে ১২৪ রানের জুটি গড়ে ওঠে।
তবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৮৩ রানে থামতে হয় তানজিদকে। ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসটি থামান ইসমাত আলম। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন এই ওপেনার।
তানজিদ বিদায় নেওয়ার পর দলের হাল ধরেন সাদমান ও মুমিনুল হক। দুজনের জুটিতে আসে ৬০ রান। আট ইনিংস পর অর্ধশতকের দেখা পান সাদমান। তাঁর ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের আশা জোরালো হলেও লাঞ্চের পর মোহাম্মদ সালিমের শর্ট বলের ফাঁদে পড়েন তিনি।
পুল করতে গিয়ে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন সাদমান। ১১১ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৬৭ রান করেন তিনি। তাঁর বিদায়ে ভাঙে বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটের জুটি।
সাদমানের বিদায়ের পর মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান। কিন্তু ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে বাংলাদেশের বিপর্যয়ের শুরু হয়।
এরপর একই বোলারের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন মুশফিকুর রহিম। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
এরপর লেগ স্পিনার কাইস আহমাদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন অধিনায়ক শান্ত। তাঁর সংগ্রহ ২৯ রান। মাত্র চার রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ দলের হাল ধরেন। দুজনের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে গড়ে ওঠে ৬২ রানের জুটি।
মিরাজ ২৪ রান করে ইসমাত আলমের বলে বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি। তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন লিটন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে সংগ্রাম করা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার দারুণ ধৈর্য নিয়ে তুলে নেন অর্ধশতক।
তবে অর্ধশতকের পর তিনিও ইনিংস বড় করতে পারেননি। সালিমের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দেন লিটন। ৮৯ বলে ৪টি চারে ৫৩ রান করেন তিনি।
একই ওভারে ইয়র্কার ধরনের বলে হাসান মাহমুদকে বোল্ড করে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন সালিম। এরপর দিনের বাকি সময় আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ দুই ব্যাটারের ওপর ভর করে দ্বিতীয় দিনে আরও কিছু রান যোগ করার আশা করবে বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সালিম ৭০ রানে ৩টি উইকেট নেন। ইয়ামিন আহমাদজাই ৬২ রানে এবং ইসমাত আলম ২০ রানে ২টি করে উইকেট শিকার করেন। কাইস আহমাদ নেন একটি উইকেট।
বাংলাদেশ: ৩১৭/৮ (৮৪ ওভার)
তানজিদ হাসান ৮৩, সাদমান ইসলাম ৬৭, লিটন দাস ৫৩, মুমিনুল হক ৩৯, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪, নাঈম হাসান ১১*, তাইজুল ইসলাম ৪*।
আফগানিস্তানের বোলিং: মোহাম্মদ সালিম ৩/৭০, ইয়ামিন আহমাদজাই ২/৬২, ইসমাত আলম ২/২০, কাইস আহমাদ ১/৬০।
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ আশাব্যঞ্জক হলেও ব্যাটারদের ইনিংস বড় করতে না পারার ব্যর্থতা স্পষ্ট। দ্বিতীয় দিনে নাঈম ও তাইজুলের ব্যাটে রান বাড়ানোর পাশাপাশি বোলারদের সামনে শক্ত অবস্থান তৈরি করাই হবে দলের প্রধান লক্ষ্য।
You cannot copy content of this page