ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে তিনি আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আলতাফ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, বর্তমানে তিনি সীমিত সময়ের জন্য এক সদস্যবিশিষ্ট পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। তিনি জানান, পাঁচ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য যোগ্য, দক্ষ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। খুব শিগগিরই একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং ব্যাংককে কার্যকরভাবে পরিচালনা করবে।”
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আলতাফ হোসেন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এর আগেও একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, পাওয়া অর্থের পুরোটা এখনো ব্যবহার করতে হয়নি। গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ উত্তোলনের প্রবণতাও কমেছে।
সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত গাড়ি ফেরত নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অপসারণ সংক্রান্ত চিঠি হস্তান্তরের পরই গাড়িটি ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুককে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলেও জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও চেয়ারম্যান অপসারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।
সোমবার সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি ব্যাংকিং খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল এবং এ বিষয়ে এবিবি আগে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, গত ১ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে যারা মেয়াদপূর্তির আগেই বিভিন্ন হিসাব বন্ধ বা নগদায়ন করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে হিসাব পুনরায় চালু করলে সব ধরনের চার্জ ও খরচ মওকুফ করা হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব হিসাবকে ধারাবাহিকভাবে চলমান হিসাব হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হবে না। এ বিষয়ে সব শাখায় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে এবং নোটিশ আকারে তা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৎ, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে।
সোমবার রাজধানীর দিলকুশায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সংগঠনটির উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের শেয়ার ফেরত দেওয়া, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ।
গ্রাহক প্রতিনিধিরা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।
You cannot copy content of this page