প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগেই ওয়েবপোর্টালে প্রদর্শিত হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ না করে ওয়েবপোর্টালে ফলাফল আপলোড করার অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ১২(১) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ৯ জুলাই ২০২৬ থেকে তার সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হবে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।
এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিলকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিক্ষা অফিসার জিয়াউল কবির সুমন এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রশাসন-২ শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রোখসানা হায়দার।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ৮ জুলাই বৃত্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েবলিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় মো. মেহতাব কায়েসকে। তাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ওয়েবপোর্টালে আপলোড করা যাবে না।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ৯ জুলাই সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিভাগের ৯ জেলার ফলাফল সংশ্লিষ্ট লিংকে আপলোড করা হয়। অল্প সময়ের জন্য লিংকগুলো সচল থাকায় অনেকেই ফলাফল ডাউনলোড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা ছিল ৯ জুলাই। কিন্তু কারিগরি সমস্যার কারণে ফল প্রকাশ স্থগিত করা হয়। এর মধ্যেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফলের অংশবিশেষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফলাফলের সত্যতা ও চূড়ান্ততা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
You cannot copy content of this page