ইরানে কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়। ওই হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নিহত হয়েছেন—এমন দাবি উঠে। এরপর তেহরান থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়েও হামলার খবর প্রকাশিত হয়।
ইরানের পাল্টা হামলার পর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে ফার্সি ভাষায় প্রকাশিত তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর নতুন ভিডিও অনুপস্থিত, তার বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা সফর স্থগিত, এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপের একটি ফরাসি ভাষার পাঠ প্রকাশ পেয়েছে।
রাশিয়ার গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার দাবি করেছেন, ইরান নেতানিয়াহুর অবস্থানে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং তার ভাই নিহত হয়েছেন। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা অস্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।
দ্য জেরুজালেম পোস্ট বলেছে, এসব প্রতিবেদন ইরান ও ইরানপন্থি তথ্যযুদ্ধের কৌশল হতে পারে। বিচ্ছিন্ন তথ্য একত্র করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন মনে হয় কোনো গোপন ঘটনা ঘটেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি সাধারণত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ মার্চ নেতানিয়াহুর সরকারি বিবৃতি প্রকাশিত হয় এবং ৬ মার্চ তাকে বিয়ারশেবার পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। স্বাধীন প্রতিবেদনে তার জনসম্মুখে কর্মকাণ্ডের তথ্যও উঠে এসেছে। যুদ্ধ চলাকালীন শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, এবং সরকারি যোগাযোগ লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসব কোনোভাবেই হত্যাকাণ্ড বা গুরুতর আহত হওয়ার প্রমাণ নয়।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র তাসনিমের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়