নিট (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাখাতে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। পরে প্রধানমন্ত্রী সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালে রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির দাবি ছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া তারা কোনো অবস্থাতেই আন্দোলন প্রত্যাহার করবে না।
সরকার ও সিজেপির প্রতিনিধিদের মধ্যে এ নিয়ে দুই দফা বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকের আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সিজেপি সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানায়। এর মধ্যে ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান। সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবি মেনে নেওয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত শনিবার বাস্তবায়ন হয়।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত।
তিনি লেখেন, “ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারে গত চার দশক ধরে নিজেকে নিবেদন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, শক্তিশালী ও দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায্য প্রত্যাশাকে আমি গভীর শ্রদ্ধা করি।”
ধর্মেন্দ্র জানান, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনা প্রকাশের পর প্রথম দিন থেকেই তিনি এর দায় স্বীকার করেছিলেন এবং কখনো দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি।
তিনি বলেন, “কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না— এটাই ছিল আমার অঙ্গীকার। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশবিরোধী শক্তি যাতে সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অটুট থাকে, শিক্ষার্থীরা যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে— এসব বিবেচনায় আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।”
ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে নিট পরীক্ষা পুনরায় আয়োজন এবং ফল প্রকাশে কেন্দ্রীয় সরকার, বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। তবে এ সময়ে দায়িত্বশীল কিছু ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
পদত্যাগপত্রের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “দেশের সেবাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতেও ভারত, ওড়িশার জনগণ এবং দেশের যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করে যাব।”
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও দিল্লির যন্তর মন্তরে ২৬ দিন অনশন করেন। পরে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি অনশন ভাঙেন। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
You cannot copy content of this page