
২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে নকআউট পর্বে জয়ের দেখা পায়নি স্পেন। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
এই জয়ের ফলে স্পেন নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলো। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। প্রথম মিনিটেই আলেক্স বায়েনার বাড়ানো পাস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন লামিনে ইয়ামাল। তবে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাজার দারুণ সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন।
২৯তম মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার জোরালো শটে বল জালে জড়ালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর পাউ কুবারসির ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।
তবে স্পেনকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে পেদ্রির দুর্দান্ত দৌড়ে তৈরি হওয়া আক্রমণে বাঁ দিক থেকে নিচু ক্রস দেন কুকুরেয়া। সেই বল কাছ থেকে নিখুঁতভাবে জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে স্পেন আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। বায়েনার ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর ফিরতি বলে ইয়ামালের কাছ থেকে নেওয়া শটও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন শ্লাজার। তার দৃঢ়তায় বিরতির আগে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া এড়ায় অস্ট্রিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬১তম মিনিটে ম্যাচে ফেরার সেরা সুযোগ পায় অস্ট্রিয়া। বদলি হিসেবে নামা মার্সেল সাবিটসারের নিখুঁত ক্রস থেকে সাসা কালাইজিচ প্রায় ফাঁকা অবস্থায় হেড করলেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
সেই সুযোগ হাতছাড়া করার পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। ৬৬তম মিনিটে কুকুরেয়া বল কেড়ে নিয়ে আলেক্স বায়েনার কাছে বাড়িয়ে দেন। বায়েনার কাটব্যাক থেকে উঠে আসা ক্রসে হেড করে জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন পেদ্রো পোরো। ২-০ ব্যবধানে স্পেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
শেষ দিকে আরও একটি গোল যোগ করে স্পেন। ৮৯তম মিনিটে কুকুরেয়ার নিখুঁত পাস ধরে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওইয়ারসাবাল। তার জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
পরিসংখ্যানেও স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে তারা ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ১০টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া পাঁচটি শট নিলেও একটিও গোলমুখে রাখতে পারেনি।
দীর্ঘ নকআউট হতাশা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী স্পেন এখন তাকিয়ে রয়েছে শেষ ষোলোর পরবর্তী চ্যালেঞ্জের দিকে, যেখানে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়ার কঠিন পরীক্ষা।