
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছর পর পদত্যাগ করেছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্ট তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে অনুমোদন দিয়েছে।
পদত্যাগের পর দেওয়া বিদায়ী ভাষণে সিভিরিদেঙ্কো বলেন, চলতি বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া আস্থা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি সবসময় ফলাফলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে পুরো মন্ত্রিসভাও পদত্যাগ করেছে।
স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কি নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শমিহাল এবং বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের নামও আলোচনায় রয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানার কৌশল গ্রহণ করেছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা, পাশাপাশি রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ তদারকি করা।
বিদায়ী বক্তব্যে সিভিরিদেঙ্কো বলেন, নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আসন্ন শীত মৌসুমের প্রস্তুতি। তার আশঙ্কা, শীতকালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর রাশিয়ার হামলা আরও তীব্র হতে পারে।
এক বছর আগে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর সিভিরিদেঙ্কোকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক সংস্কারে তিনি প্রত্যাশিত দৃঢ়তা ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখাতে পারেননি।
এর আগে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেন নতুন রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করছে এবং সে কারণে সরকারের নেতৃত্বে নতুন মুখ প্রয়োজন। তবে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি এর বাইরে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।