
ভারতের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন শেষ করেছেন। সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানোর স্বার্থে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস পাওয়ার পর গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক।
ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক। তিনি যুব সংগঠন সিজেপির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
টানা অনশনের ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অনশনের ২১তম দিনে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অনশন প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াংচুক জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা, ড. জিতেন্দ্র সিংসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভেঙেছেন।
তিনি লেখেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য তাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ আলোচনা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিগগিরই একটি ভিডিও বার্তায় আলোচনার শর্তগুলো বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলেও জানান। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্সে দেওয়া পোস্টে ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, তিনি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন এবং দ্রুত আগের শারীরিক অবস্থায় ফিরে আসেন।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দিল্লি হাই কোর্ট একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
যদিও ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন, তবে সিজেপির আন্দোলন এখনো অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।
সম্প্রতি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেটও বন্ধ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে। সরকারের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় ২৮ জুন অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। গত বছর লাদাখে একটি আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় কয়েক মাস কারাভোগের পর চলতি বছরের মার্চে মুক্তি পান তিনি।