
বরগুনার তালতলীতে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনের পর রিমা নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করলেও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নিহতের স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রিমা ও তার স্বামীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। গত সোমবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগের পর তালতলী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্বজনদের দাবি, মরদেহ মর্গে রেখে রিমার স্বামী ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়েই সেখান থেকে চলে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
নিহতের স্বজন আবু বকর অভিযোগ করে বলেন, তারা আশঙ্কা করছেন রিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, প্রথমে ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও পরে পরিবারের আবেদনের পর ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়।
অন্যদিকে নিহতের ভাই মো. জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, তার বোনকে জোরপূর্বক গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন আগে তাকে মারধর করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, রিমার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নির্ধারণে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি।