
২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ‘আহমদ ঈসা’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নবুওয়তের দাবি ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ‘নাবা সেভেন’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে তিনি নিজের ধর্মীয় মতাদর্শ ও বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করেন বলে বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আহমদ ঈসাকে ইসলামের প্রচলিত খতমে নবুওয়ত বিশ্বাসের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী নন। একইসঙ্গে তিনি ‘আল-কিতাব’ নামে একটি গ্রন্থের মাধ্যমে নিজের ধর্মীয় মতাদর্শ তুলে ধরেন।
তার এসব বক্তব্য ইসলামের প্রচলিত আকিদা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। ইসলামের মূলধারার বিশ্বাস অনুযায়ী, হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতে তাকে ‘খাতামুন নবিয়্যিন’ বা শেষ নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসেও তার পরে কোনো নবী না আসার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
আহমদ ঈসার প্রচারিত বক্তব্যের একটি অংশে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাতকে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার দাবি করা হয়েছে বলে সামাজিকমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়। তবে পবিত্র কোরআনে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাতকে সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা আল-আরাফের ১৫৮ নম্বর আয়াতে তাকে ‘সমস্ত মানুষের জন্য’ প্রেরিত রাসুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সূরা আল-আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে তাকে ‘সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আহমদ ঈসার নামে প্রচারিত ‘আল-কিতাব’ বই নিয়েও সামাজিকমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। বইটির বক্তব্য, ভাষা এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে বইটির প্রকাশনা, প্রচার এবং এর বিভিন্ন দাবির বিষয়ে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।
আহমদ ঈসার ব্যক্তিগত পরিচয় ও অতীত জীবন নিয়েও সামাজিকমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি প্রচারিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে বলে কিছু অনলাইন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটির স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো অভিযোগকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ইসলামি বক্তা ও ধর্মীয় আলোচক সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ তাকে প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
ইসলামের মূলধারার আকিদা অনুযায়ী, হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী এবং তার পরে কোনো নতুন নবী আসবেন না। তাই পরবর্তীকালে কোনো ব্যক্তি নবুওয়তের দাবি করলে তা প্রচলিত ইসলামী বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আহমদ ঈসার বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে সামাজিকমাধ্যমে এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অযাচাইকৃত অভিযোগ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এড়িয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ধর্মীয় সূত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি উপস্থাপন করাই গুরুত্বপূর্ণ।