1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনাল আগামী সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহনের জন্য চালু হচ্ছে। অক্টোবরে পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কার্যক্রম শুরুর আগে নতুন টার্মিনাল চালুর এই উদ্যোগকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন টার্মিনালটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন—দুই কার্যক্রমেই ব্যবহার করা হবে। গত বুধবার কক্সবাজারে চূড়ান্ত প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, বিমানবন্দরে চলাচলকারী সব অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইনস নতুন টার্মিনালে যাত্রী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম স্থানান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

প্রাথমিকভাবে বিমান ও টার্মিনাল ভবনের মধ্যে যাত্রী পরিবহনে এয়ারলাইনসগুলো গলফ কার্ট ব্যবহার করবে। বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম শুরুর পর আগামী মাসে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নভোএয়ারের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের পরিচালক সোহেল মজিদ বলেন, নতুন টার্মিনাল চালুর জন্য তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। গলফ কার্ট মোতায়েনসহ যাত্রী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন টার্মিনাল নির্মাণ এবং রানওয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে সম্প্রসারণসহ বিমানবন্দরের উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের পাশাপাশি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানান, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হলে টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা হাইব্রিড ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আগমন ও বহির্গমন—দুই ধরনের যাত্রীই নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবেন। তবে অভ্যন্তরীণ আগমনকারী যাত্রীরা পুরোনো টার্মিনাল ব্যবহার করবেন। অভ্যন্তরীণ বহির্গমনকারী যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইন শেষে পুরোনো টার্মিনালে গিয়ে বোর্ডিংয়ের অপেক্ষা করবেন।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা অনুমোদিত ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক যাত্রী ধারণক্ষমতার ডিপার্চার লাউঞ্জ, শুল্কমুক্ত দোকান, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন ডেস্ক, আগমন ও বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং অ্যারাইভাল লাউঞ্জ রয়েছে।

বহির্গমনকারী যাত্রীদের জন্য চারটি এবং আগমনকারী যাত্রীদের জন্য ছয়টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আগমনকারীদের জন্য রয়েছে দুটি লাগেজ ডেলিভারি বেল্ট। পাশাপাশি পাবলিক অ্যাড্রেস ও ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম, সাইনেজ, সিসিটিভি এবং ভারী হাতব্যাগ স্ক্যানিংয়ের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দরটির সম্প্রসারণের পর বার্ষিক যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুইটি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ ধারণক্ষমতার ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রন এবং দুটি ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি ভিআইপি ও ৯০টি সাধারণ যানবাহনের জন্য পার্কিং সুবিধা, অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামোও নির্মাণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় মান যাচাইয়ের পর বিমানবন্দরটি আইসিএও সনদও পেয়েছে।

বিমানবন্দর উন্নয়নের অন্যতম বড় অংশ হলো রানওয়ে সম্প্রসারণ। ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়েটি বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে, যা এটিকে বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়েতে পরিণত করেছে। রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

সম্প্রসারিত রানওয়েটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০সহ সম্পূর্ণ বোঝাই ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৩ হাজার ৭০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৭৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চীনা যৌথ উদ্যোগ সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি জেভি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের দিকে সম্প্রসারিত প্রায় ২ হাজার ২০০ ফুট প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং এবং নিরাপদ উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য ক্যাট-টু এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রানওয়ে সুরক্ষায় নির্মাণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ। পাশাপাশি নিরাপত্তা বেড়া, টহল সড়ক ও ৮ হাজার ১৪৯ মিটার দীর্ঘ ড্রেনেজ ব্যবস্থাও রয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে। একই সঙ্গে হোটেল, রিসোর্টসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতেও এটি ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page