1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

দুদকের অনুসন্ধান শুরু রোজ গার্ডেন ক্রয়ে ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে পুরান ঢাকার হৃষিকেশ দাস রোডের ঐতিহাসিক ‘রোজ গার্ডেন’ ভবন ক্রয়ের ঘটনায়, যেখানে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভবনটি মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের যাত্রার সূচনা হয়েছিল।

বুধবার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, “গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে রোজ গার্ডেন ভবন ক্রয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রাপ্ত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২০১৮ সালে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত রোজ গার্ডেন ভবনটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্রয় করে। ক্রয়ে ব্যয় হয় ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা। ওই বছরের ৮ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ভবনটি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

রোজ গার্ডেন ভবনটি রাজনৈতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এখানে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি পায়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দলটি স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়।

ভবনটির ইতিহাস ১৯৩১ সালে শুরু। পুরান ঢাকার ২২ বিঘা জমির ওপর ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন, যা পরে ‘রোজ গার্ডেন’ নামে পরিচিত হয়। ভবনের চারপাশ দেশ–বিদেশ থেকে আনা বিরল প্রজাতির গোলাপের বাগান দিয়ে সজ্জিত করা হয়। করিন্থীয়–গ্রীক শৈলী অনুসরণে তৈরি প্রায় সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি বৃহৎ জলসা ঘর রয়েছে। মেঝে সাদা পাথরের এবং সিলিংয়ে সবুজ কাচ দিয়ে ফুলের নকশা করা আছে। গোলাপ বাগানের সঙ্গে পুকুর, ফোয়ারা ও পাথরের ভাস্কর্য ছিল।

নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ঋষিকেশ দাস দেউলিয়া হয়ে যান এবং ১৯৩৬ সালে বাড়িটি ঢাকার বই ব্যবসায়ী খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে বিক্রি করেন। পরে ভবনটি কাজী হুমায়ূন, মোশন পিকচার্স লিমিটেড ও কাজী রকিব পরিবারের মালিকানায় আসে।

১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত ভবন হিসেবে ঘোষণা দেয়। পরে মূল মালিকরা পুনরায় ভবনটির মালিকানা পান। রোজ গার্ডেনের মালিক লায়লা রকিব ও তার সন্তানদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন দলিল মূলে ক্রয় করে সরকার ভবনটি অধিগ্রহণ করে।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!