এশিয়ার ৩০ দেশের আর্চাররা এখন ঢাকায়। আজ (শুক্রবার) পর্দা উঠছে প্রতীক্ষিত এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের। রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড—এই দুই বিভাগ মিলিয়ে ১০টি ইভেন্টে পদকের জন্য লড়বেন মোট ২০৯ জন আর্চার।
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম ও বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে। প্রথম দিন আজ জাতীয় স্টেডিয়ামে আর্চারদের আনুষ্ঠানিক অনুশীলন হবে। পাশাপাশি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান আর্চারি কংগ্রেস।
তৃতীয়বারের মতো এই আসরের আয়োজক বাংলাদেশ এবার মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও চীনের মতো ফেবারিট দলগুলোর। যদিও এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ কখনোই এই আসরে সোনার পদক জিততে পারেনি। এবার সেই অপেক্ষা ঘোচাতে মরিয়া স্বাগতিকরা।
দেশের প্রত্যাশা থাকবে আবদুর রহমান আলিফ, সাগর ইসলাম ও বন্যা আক্তারদের দিকে।
২০২১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ পেয়েছিল একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ—সবক’টি দলগত ইভেন্টে। তবে ২০২৩ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসরে দল খালি হাতে ফিরেছিল। এবার সেই হতাশা কাটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন আর্চাররা।
রিকার্ভ ইভেন্টের আর্চার সাগর ইসলাম (বিশ্ব র্যাংকিং ৭৫) বলেন,
“আমাদের দেশের মাঠে এবারের প্রতিযোগিতা। এখানকার সবকিছুই আমাদের পরিচিত। আমরা বছরজুড়ে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আশা করি, এবার পরিশ্রমের ফল পাবো এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবো।”
আরেক আর্চার আবদুর রহমান আলিফ (র্যাংকিং ৭১) বলেন,
“দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশ থেকে বিশ্বমানের আর্চাররা এসেছে। তবে আমরাও আত্মবিশ্বাসী। আর্চারি এমন এক খেলা যেখানে নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সই সব। সেদিন যার হাতে সেরা ছোঁয়া থাকবে, জয় তারই।”
বাংলাদেশ দলের কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক বলেন,
“গতবার ব্যাংককে আমরা কোনও পদক পাইনি। এবার সবাই উন্মুখ ভালো ফল করতে। আমি আর্চারদের ওপর ভরসা রাখি।”
এশিয়ার আর্চারি ভক্তদের নজর থাকবে—বাংলাদেশের আলিফ, সাগর, ভারতের ধীরাজ বোম্মাডেভারা, আতানু দাস, দীপিকা কুমারী, দক্ষিণ কোরিয়ার সিও মিনগি, কিম ইয়াচেন ও ইরাকের ফাতিমা আলমাশদানির দিকে। তবে শেষ পর্যন্ত কে বাজিমাত করবেন—তা জানাবে মাঠের লড়াই।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়