পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় রমজান উপলক্ষে সুলভ মূল্যে মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল। উপজেলার তিনটি নির্ধারিত স্থান থেকে এসব পণ্য কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ কার্যক্রম শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারমূল্য ৭৫০ টাকা হলেও এখানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৮০ টাকায়। ‘মা বাবা দোয়া’ মাংসের দোকানের স্বত্বাধিকারী পারিজুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল থেকেই তিনি নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি করছেন। এতে প্রতি কেজিতে ৭০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে ক্রেতাদের।
ক্রেতা হোসেন আলী বলেন, রমজানে মাংসের চাহিদা বাড়লেও দাম চড়া থাকে। সুলভ মূল্যে মাংস কিনতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ডিমের বাজারও যেখানে ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে ‘জাহিন লেয়ার ফার্ম’ প্রতি হালি ডিম ৩২ টাকা (প্রতি পিস ৮ টাকা) দরে বিক্রি করছে। ডিম কিনতে আসা সালমা বেগম বলেন, রমজানে সংসারের খরচ বেড়ে যায়। সুলভ মূল্যে ডিম পেয়ে কিছুটা স্বস্তি মিলছে।
অন্যদিকে রওশনপুর এলাকার ‘হারাদিঘী ডেইরি ফার্ম’ প্রতি লিটার দুধ বিক্রি করছে ৭৫ টাকায়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫০০ ডিম, ৭০০ লিটার দুধ এবং ১০০ কেজি গরুর মাংস সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ৩৩ হাজার টাকার পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নাজমুল হক বলেন, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রমজানে পণ্যের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হবে।
তিনি আরও জানান, পুরো রমজান মাসজুড়ে তেঁতুলিয়ার তিনটি নির্ধারিত স্থানে এ কার্যক্রম চলবে। অতিরিক্ত পণ্য মজুত রোধে বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়