বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক। শোকের সেই আবহেই দক্ষিণ এশিয়ার দুই বৈরি প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপ হয় এবং তাদের করমর্দনের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ গলতে পারে—এমন আশাও তৈরি হয়েছিল।
তবে ঢাকার সেই সাক্ষাতের মাত্র দুদিন পরই পাকিস্তান সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চেন্নাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি), মাদ্রাজে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জয়শঙ্কর পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ আখ্যা দেন।
ভাষণে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার ভারতের রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতকে কী করা উচিত বা উচিত নয়—তা অন্য কেউ বলে দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জয়শঙ্কর বলেন, ‘খারাপ প্রতিবেশীও থাকতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের তেমন প্রতিবেশী আছে। পশ্চিমের দিকে তাকালে দেখা যায়, যদি কোনো দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং অনুশোচনা ছাড়াই সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের রয়েছে। আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কীভাবে আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব, তা আমাদের বিষয়। নিজেদের রক্ষার জন্য যা করা দরকার, আমরা তাই করব।’
পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিচুক্তি প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, বহু বছর আগে পানিবণ্টনের একটি চুক্তিতে সম্মত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ চললে ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক টিকে থাকে না। আর ভালো সম্পর্ক না থাকলে সেই সম্পর্কের সুবিধাও পাওয়া যায় না। একদিকে পানি ভাগাভাগির দাবি, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদ—এই দুই একসঙ্গে চলতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে সীমান্ত সংঘাতের পর ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের স্পিকারের সাক্ষাতে অনেকেই সম্পর্ক উন্নতির আশা করেছিলেন। তবে মাত্র দুদিনের ব্যবধানে জয়শঙ্করের এই বক্তব্য সেই আশায় বড় ধরনের ভাটা দিল।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়