1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন

বেলুচিস্তানে ব্যাংক লুট ও পুলিশ স্টেশনে হামলা: নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে দুটি ব্যাংক লুট ও একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের খারান শহরে এ ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের মদদপুষ্ট ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী একযোগে খারান শহরের তিনটি স্থানে হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্য ছিল খারান সিটি পুলিশ স্টেশন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং হাবিব ব্যাংক লিমিটেড।

বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা দুই ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৪ লাখ রুপি লুট করে। একই সঙ্গে তারা পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়ে জিম্মি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর অভিযানে তাদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, খারান ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে ক্লিন-আপ বা মপ-আপ অভিযান চলছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) এবং ফেডারেল সরকারের অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পাকিস্তান সরকার বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, ভারত একটি বিস্তৃত হাইব্রিড যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিশেষ করে বেলুচিস্তানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, অভিযানে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তাকে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি স্থানে প্রাথমিক সংঘর্ষেই চার সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং পরবর্তী অভিযানে বাকিদেরও নিষ্ক্রিয় করা হয়।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে সন্ত্রাসীরা এখন আদর্শিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সংগঠিত অপরাধ—যেমন ব্যাংক ডাকাতির দিকে ঝুঁকছে। তার ভাষায়, “ওরা রাস্তায় নামলে পরাজিত হবে, আর লুকিয়ে থাকলে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে খুঁজে বের করা হবে।”

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বেলুচিস্তানের দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাঙ্গানের মতো কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিয়ন্ত্রণহীন ৪জি নেটওয়ার্ক শত্রুপক্ষের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একইসঙ্গে তিনি ৩০০ কোটি রুপির একটি প্রাদেশিক প্রকল্পের ঘোষণা দেন। এই প্রকল্পের আওতায় বেলুচিস্তানজুড়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করা হবে এবং সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!