1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা: ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫

জীববৈচিত্র্য বলতে সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার জীবের একত্র সমাবেশকে বোঝানো হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, কোনো অঞ্চলের নির্দিষ্ট প্রজাতির মধ্যে জীনগত, প্রজাতিগত ও বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যই জীববৈচিত্র্য। জীববিজ্ঞানী ম্যাকেঞ্জি বলেন, বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন স্তরের জীবদের ক্ষেত্রে একই প্রজাতির জীবের জীনগত প্রকরণ থেকে যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, সেটিই জীববৈচিত্র্য।

আল্লাহতায়ালা এই বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছেন। সুরা শুরা (২৯)-এ উল্লেখ আছে, ‘তাঁর নিদর্শনাবলির একটি হলো, আসমান ও জমিন এবং এর মাঝে বিস্তৃত জীবজন্তুর সৃষ্টি। নিশ্চয়ই তিনি চাইলেই সবকিছু একত্রিত করতে সক্ষম।’জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিজ ও উদ্ভিদজাত সব উপাদান কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী ব্যবহার করা আবশ্যক। যদি প্রকৃতিকে তার আসল চরিত্রে অক্ষত রাখা যায়, তাহলে গ্রীন হাউজ এফেক্ট বা পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো সংকট থেকে বাঁচা সম্ভব। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জলে-স্থলের সব বিপদ মানুষের হাতের কামাই। যাতে তারা তাদের কৃতকর্মের কুফল ভোগ করে এবং তা থেকে ফিরে আসে।’ (সুরা রুম : ৪১)


প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গাছপালা, তরুলতা, জলবায়ু, জীবজন্তু ও পশুপাখি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বনাঞ্চল ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি কারও হাতে রোপণ করার কোনো চারা থাকে, এমতাবস্থায় কেয়ামত এসেও আসে, রোপণ করতে তা যেন ধরে রাখে।’ (উমদাতুল কারি : ১২/১৫৪)

আরেক হাদিসে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়-জুলুম না করে কিছু নির্মাণ বা চারা রোপণ করে, যতদিন আল্লাহর সৃষ্টি তা থেকে উপকৃত হবে, ততদিন রোপণকারী সওয়াব পাবে।’ (উমদাতুল কারি : ১২/১৫৫)


উদ্ভিদ পরিবেশ, প্রাণী ও আবহাওয়াকে জীবন্ত রাখে। বনভূমি না থাকলে পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু সংকট দেখা দেয়। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রেও কোনো খেজুরগাছ বা উদ্ভিদ কেটে ফেলো না।’ (এরশাদুল ফকিহ : ২/৩২০)


পানি অপচয় রোধ ও পানিতে বর্জ্য না ফেলা পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর। রাসুল (সা.) অজুতে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪১৯)
যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ জলবায়ু দূষণের কারণ; রাসুল (সা.) নিষেধ করেছেন ছায়াদার গাছের নিচে, মানুষের চলাচলের রাস্তা ও স্থির পানিতে প্রস্রাব করতে। (মুসলিম : ১/১৮৮, ১/৭৩)


পরিচ্ছন্ন ঘরবাড়ি, আঙিনা, রাস্তাঘাট ও শহর পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধ করে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের আঙিনা পরিষ্কার রাখো, ইহুদিরা তাদের বসবাসস্থলের চারপাশ অপরিচ্ছন্ন রাখে।’ (তাবারানি : ২/১১)


পশুপাখি ও জীবজন্তু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। অহেতুক প্রাণীহত্যা পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি চড়ুই বা ছোট প্রাণীও অকারণে হত্যা করবে, কেয়ামতের দিনে তাকে জবাবদিহিতা করতে হবে।’ (মিরকাত : ২৬৫৮)


জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় ইসলামী নির্দেশনা অনুসরণ করলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। বৃক্ষরোপণ, পানি সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রাণী সংরক্ষণ—এসবই আমাদের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!