শ্রমিক গ্রেপ্তার ও বাস বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো ময়মনসিংহসহ চার জেলা থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘটে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে। মুক্তিযোদ্ধা আবু রায়হান বাসে ওঠার সময় ইউনাইটেড পরিবহনের শ্রমিক অরুণ ঝন্টুর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও অরুণ তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করে বাস থেকে নামিয়ে দেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা রাতেই ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ শ্রমিক অরুণ ঝন্টুকে আটক করে।
শনিবার সকালে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা বাইপাস এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে, ফলে ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও জামালপুর থেকে ঢাকাগামী সব বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে ঢাকাগামী বাসগুলোও পথে আটকা পড়ে, যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগে ভোগেন।
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা দোষীদের শাস্তি ও আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক শামীমকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অপরদিকে পরিবহন শ্রমিকরা আটক শ্রমিকের মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তোলে।
বিকালে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, আমিনুল হক শামীমের মালিকানাধীন ইউনাইটেড সার্ভিসের ১৬টি বাস বন্ধ থাকবে। এরপর উভয় পক্ষ অবরোধ তুলে নিলেও রাতে নতুন সিদ্ধান্তে ইউনাইটেড ও সৌখিন পরিবহনের বাস না চালানোর ঘোষণা আসে।
ফলে রোববারও ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও জামালপুর থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়