ঢাকার মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় তুরাগ নদ ও রামচন্দ্রপুর খালের জলাশয় ভরাট করে বেসরকারি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় যেখানে খাল ও প্লাবনভূমি ছিল, সেখানে এখন কংক্রিটের ভবন গড়ে উঠেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের পর থেকেই এলাকাটিতে ব্যাপক ভরাট কার্যক্রম শুরু হয়।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইনের অনুমোদন ছাড়াই এই ভরাট করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন ২০০০-এর পরিপন্থী। তাদের মতে, এতে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির প্রশাসনের দাবি, ক্যাম্পাসটি তাদের রেকর্ডকৃত সম্পত্তির ওপর নির্মিত এবং এটি কোনো প্রাকৃতিক জলাধার ছিল না। তবে তারা এ দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো নথি দেখাতে পারেনি।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, রামচন্দ্রপুর খাল পুনরুদ্ধারে আইনি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।