জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ক গণভোটে প্রাথমিক ও বেসরকারি ফলাফলে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট।
বেসরকারিভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন আসনের ১০৬টি কেন্দ্রের ফলে সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৭টি। বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫টি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এই গণভোট ঘিরেও ভোটারদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনসমর্থনের প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।
গণভোটে চূড়ান্তভাবে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই তিনি বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ দিতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে। প্রকাশ্য ভোটের পরিবর্তে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যরা গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। পাশাপাশি ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়েও সীমা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না—এমন বিধানও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অর্থবিল ও অনাস্থা ভোট ছাড়া অন্য বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন এমপিরা। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।
বিচার বিভাগীয় কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব আছে। প্রধান বিচারপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগে পৃথক কমিশন গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, জরুরি অবস্থায় অধিকার খর্ব না করা, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির মতো বিষয়ও সনদে যুক্ত রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে।
যদিও এটি এখনো আংশিক ও বেসরকারি ফলাফল, তবু প্রাথমিক চিত্র বলছে—গণভোটের এই ফল দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত ফল ঘোষণার।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়