মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিচ্ছে সরকার। গত ছয় মাস ধরে চলা এই কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়েছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ঢাকা–রিয়াদ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সৌদিতে কর্মরত প্রায় ৩৫ হাজার বাংলাদেশির স্বার্থ রক্ষার বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল গত ছয় মাস ধরে পাসপোর্ট প্রদানের কাজ করছে। যাদের পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে মূল শর্ত হিসেবে পিতামাতার বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য চাপ দিচ্ছে। বিভিন্ন স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে পাসপোর্ট দেওয়া মানেই তারা বাংলাদেশের নাগরিক—এমন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্য দেশের নাগরিককেও পাসপোর্ট দেওয়ার নজির রয়েছে।
তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিকরা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সৌদিতে পাসপোর্ট পাওয়া এসব রোহিঙ্গা ভবিষ্যতে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়ালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি এটি মিয়ানমারের সেই দাবিকে শক্তিশালী করতে পারে যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, যা ভবিষ্যতে শরণার্থী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট তৈরি করতে পারে।