1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

শরীরের ভেতরের প্রদাহ আগেই জানাবে ত্বক, জাপানি গবেষণায় যুগান্তকারী প্রযুক্তি

টেক ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

শরীরের ভেতরে প্রদাহ শুরু হলেও অনেক সময় তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। উপসর্গ প্রকাশ পেতে পেতে ভেতরে ক্ষতি অনেক দূর এগিয়ে যায়। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, জীবন্ত ত্বকের একটি ছোট প্যাচ শরীরের ভেতরের প্রদাহ বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশের কয়েক মাস আগেই শনাক্ত করতে পারে। এতে সূই বা রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন ছাড়াই রোগ পর্যবেক্ষণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও–এর গবেষকরা এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার নাম ‘লিভিং সেন্সর ডিসপ্লে’। শরীরে প্রতিস্থাপিত বিশেষভাবে তৈরি এই ত্বক প্রদাহ বাড়লে নিজে থেকেই আলো বা উজ্জ্বল সংকেত প্রদর্শন করে।

কীভাবে কাজ করে ‘লিভিং সেন্সর ডিসপ্লে’

এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক শোজি তাকেউচি। তার দল এমন ত্বককোষ ব্যবহার করেছে, যা শরীরের ভেতরের প্রদাহজনিত রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে। প্রদাহ বাড়লে এসব কোষে জৈব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্লুরোসেন্ট আলো তৈরি হয়, যা ত্বকের ওপরিভাগে দৃশ্যমান হয়।

ত্বক যেহেতু স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলে, তাই এই সেন্সর ব্যবস্থাও দীর্ঘদিন টিকে থাকে। নতুন কোষগুলো পুরোনো কোষের মতোই প্রদাহ শনাক্ত করার ক্ষমতা ধরে রাখে। ফলে ব্যাটারি বা চার্জ ছাড়াই কাজ করতে পারে এই ‘জীবন্ত সেন্সর’।

পরীক্ষার ফলাফল

প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, শরীরে প্রদাহ বাড়লে ত্বক প্যাচটি উজ্জ্বল হয় এবং প্রদাহ কম থাকলে আলো নিস্তেজ থাকে। প্রদাহের মাত্রা যত বেশি, আলো তত উজ্জ্বল। অন্য ধরনের সাধারণ ইমিউন প্রতিক্রিয়ায় তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি—যা প্রমাণ করে, এই প্রযুক্তি নির্দিষ্টভাবে প্রদাহ শনাক্ত করতে সক্ষম।

গবেষণায় ইঁদুরের শরীরে মাত্র ১০০ মাইক্রোমিটার পুরু ত্বক প্যাচ প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রায় চার সপ্তাহ পর প্রতিস্থাপনজনিত প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কমে গেলে কৃত্রিমভাবে প্রদাহ সৃষ্টি করা হয়। তখন ত্বকের ওপরিভাগে স্পষ্ট সংকেত দেখা যায়।

সূই ছাড়াই বায়োমার্কার পর্যবেক্ষণ

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শরীরের ভেতরের বিভিন্ন বায়োমার্কার—যা রোগের অগ্রগতি নির্দেশ করে—ত্বকের ওপর থেকেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। খালি চোখে বা ক্যামেরা ব্যবহার করে এই সংকেত পড়া যাবে। তবে এটি এখনো রক্তে নির্দিষ্ট উপাদানের সঠিক মাত্রা জানাতে পারে না; বরং সময়ের সঙ্গে প্রদাহ বাড়ছে নাকি কমছে, সেই প্রবণতা বোঝাতে বেশি কার্যকর।

নিরাপত্তা ও চ্যালেঞ্জ

গবেষণায় জিনগতভাবে পরিবর্তিত কোষ ব্যবহারের কারণে মানবদেহে প্রয়োগের আগে নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা যেন এই কোষকে আক্রমণ না করে, সে জন্য আরও উন্নত জিন সম্পাদনা কৌশল প্রয়োজন। পাশাপাশি গোপনীয়তা, সম্মতি এবং কোষ ছড়িয়ে পড়া রোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জরুরি।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি শুধু প্রদাহ নয়—হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, অক্সিজেনের ঘাটতিসহ বিভিন্ন জৈব সংকেত শনাক্ত করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। পশুচিকিৎসা, অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণাগারে প্রাণীর ওপর চাপ কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, ‘লিভিং সেন্সর ডিসপ্লে’ প্রযুক্তি ত্বককে একই সঙ্গে সেন্সর ও ডিসপ্লেতে রূপান্তর করেছে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ন্যাচার কমিউনিকেশনস’–এ প্রকাশিত হয়েছে। মানবদেহে প্রয়োগের আগে আরও পরীক্ষা ও নীতিগত প্রস্তুতি প্রয়োজন হলেও, বিজ্ঞানীরা এটিকে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!