জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর সোমবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিবৃতি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের আদালতের এই রায় দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তিনি উল্লেখ করেন, দণ্ডাদেশের মাধ্যমে একটি মৌলিক নীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—ক্ষমতা যাই হোক, আইনের চোখে সবাই সমান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও শোকাহত পরিবারের জন্য এই রায় “আংশিক হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যায়বিচার।”
ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নে ক্ষতিগ্রস্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের সময়েই এই রায় এসেছে। তিনি জানান, সে সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন—যারা কেবল সংখ্যা নন, ছিলেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বাংলাদেশের নাগরিক।
সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে আসা নির্মমতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। আজকের রায় সেই ত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, পরিবর্তনের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়ানো শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা বুঝেছিলেন ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা—অন্যদিকে অনেকে নিজের জীবনের মূল্য দিয়ে গেছেন।
ড. ইউনূস বলেন, সামনের পথ শুধু আইনগত জবাবদিহির নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার বিশ্বাস পুনর্গঠনের। প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য কেন মানুষ জীবন বাজি রাখে তা বোঝা এবং সেই বিশ্বাস ধারণ করতে সক্ষম ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার ও প্রতিটি নাগরিকের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতি ধরে রেখে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং স্থায়ী হবে।