দেশে দ্রুত বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণের পরিমাণে কিছুটা কমতি এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে বছরের শেষ তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।
তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় খেলাপি ঋণ ২ লাখ ১১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা বেশি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর অনিয়ম ও জালিয়াতিতে জড়িত অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী দেশ ছেড়েছেন বা আইনের আওতায় এসেছেন। পাশাপাশি আগের মতো নীতি সহায়তার আড়ালে খেলাপি ঋণ লুকিয়ে রাখার সুযোগ কমেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক খাতে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। সঞ্চিতি ঘাটতি থাকলে ২০২৫ সালে কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না—এমন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ আদায় ও পুনঃতফসিলে জোর দিয়েছে।
এদিকে গত সেপ্টেম্বরে ঘোষিত বিশেষ নীতিমালায় মাত্র ২ শতাংশ (পরে ১ শতাংশ) ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেওয়া হয়। দুই বছর পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ না করার সুবিধাও রয়েছে।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনঃতফসিল সুবিধার কারণেই মূলত কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে এসেছে।







