চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি মঙ্গলবার আসছে না। সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অপারেটর কর্তৃপক্ষ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত স্লট বাতিলের আবেদন করেছে বলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এতে খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা পঞ্চমবারের মতো পিছিয়ে গেল। বিএনপি নেতাদের মতে, তার যাত্রা পুরোপুরি নির্ভর করছে তার সাম্প্রতিক শারীরিক অবস্থা ও মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর।
জার্মানভিত্তিক এফএআই অ্যাভিয়েশন গ্রুপের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ঢাকায় অবতরণ এবং রাত ৯টায় ঢাকা ছাড়ার জন্য অনুমতি পেয়েছিল। এর আগে শনিবার তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে করা আবেদনটির প্রেক্ষিতে রোববার বাংলাদেশ তাদের সাড়া দেয়। প্রথমিক পরিকল্পনায় ছিল মঙ্গলবার ঢাকায় অবতরণ এবং পরদিন লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। প্রথমে কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে লন্ডনে নেওয়ার কথা জানানো হলেও পরবর্তীতে কারিগরি ত্রুটির কারণে তা বিলম্বিত হয়। পরে কাতার দূতাবাস জানায়, আমিরের বহরের উড়োজাহাজটি আসছে না; পরিবর্তে জার্মানি থেকে ভাড়া করা হবে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
মেডিকেল বোর্ড শনিবার জানায়, খালেদা জিয়া এখনো বিমানভ্রমণের সক্ষমতা অর্জন করেননি। তবে ৯–১০ ডিসেম্বরের দিকে তার শারীরিক অবস্থা উন্নত হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মঙ্গলবারের স্লট বাতিল হওয়ায় যাত্রা আবারও বিলম্বিত হলো।
ভাড়া করা উড়োজাহাজটি বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার (CL-60) সিরিজের দু’ইঞ্জিনবিশিষ্ট জেট, যা ২০১৮ সালে তৈরি। এতে ভেন্টিলেটর, মনিটরিং ইউনিট, ইনফিউশন পাম্প, অক্সিজেন সরবরাহসহ জরুরি চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। প্রেসারাইজড কেবিনে থাকবেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকস দলের সদস্যরা।
এর আগে গত জানুয়ারিতে খালেদা জিয়া কাতারের আমিরের বহরের একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তার লন্ডন যাত্রার নতুন সময়সূচি বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো জানানো হয়নি।