
যশোরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখনো শহরের বিভিন্ন দেয়াল, গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও রিকসা–ইজিবাইকে শোভা পাচ্ছে রঙিন নির্বাচনী পোস্টার ও ফেস্টুন। ভোটের এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এসব অপসারণ না হওয়ায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
শহরের কোর্টের মোড়, চিত্রার মোড়, পোস্ট অফিস চত্বর, সার্কিট হাউজ এলাকা, এমএম আলী রোড, প্যারিস রোড ও উপশহরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, লাঙল ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীদের পোস্টার ও অপচনশীল (পিভিসি) ব্যানার দেখা গেছে। অনেক প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও তারিখও উল্লেখ নেই।
এগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর বিধি ৭-এর (ক), (খ), (গ) ও (ঞ) উপবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। বিধিমালায় সরকারি–বেসরকারি স্থাপনা, যানবাহন ও গাছে প্রচারণা সামগ্রী সাঁটানো এবং অপচনশীল ব্যানার ব্যবহার নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে যশোর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দাবি করেছেন, এসব রঙিন পোস্টার তাদের নয় এবং এটি ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, আচরণবিধি মেনে তারা কোনো স্টিকার বা পোস্টার তৈরি করেননি।
এর আগে ২৯ জানুয়ারি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে এমএম কলেজ পুরাতন ছাত্রাবাসের দেয়ালে পোস্টার সাঁটানোর দায়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ২০ হাজার টাকা এবং ইজিবাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোস্টার লাগানোর দায়ে জামায়াত প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
তবে অভিযান চললেও এখনো শহরজুড়ে এসব পোস্টার ও ব্যানার পুরোপুরি অপসারণ হয়নি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়
Leave a Reply