ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের কুর্নুল জেলার চিন্না টেকুর গ্রামের কাছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লেগে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও এনডিটিভির প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে হায়দ্রাবাদগামী বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বাসটি ৪০ জন যাত্রী নিয়ে মধ্যরাতে হায়দ্রাবাদ থেকে রওনা দেয়। জাতীয় সড়ক ৪৪ (এনএইচ–৪৪)-এর কুর্নুলের কাছে পৌঁছালে এটি একটি দুই চাকার যানের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, দুই চাকার যানটি বাসের নিচে আটকে যাওয়ার পর ঘর্ষণ থেকে আগুন ধরে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন বাসটিকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলে।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাসের চালক ও সহকারীসহ মোট ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। “১৫ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে,” বলেন তিনি। এছাড়া ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে।
তিনি আরও জানান, “যেহেতু এটি একটি এসি বাস ছিল, যাত্রীদের জানালা ভেঙে বের হতে হয়েছিল। যারা বের হতে পেরেছেন, তারাই বেঁচে আছেন।” নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান ও মৃতদেহ শনাক্তের কাজ চলছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এর ঠিক ১০ দিন আগে—১৫ অক্টোবর—রাজস্থানের জয়সালমের-জোধপুর মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ২০ জন যাত্রী পুড়ে মারা যান। ৫৭ জন যাত্রী বহনকারী একটি প্রাইভেট বাসে হঠাৎ আগুন ধরে গেলে একমাত্র দরজা আটকে যাওয়ায় যাত্রীরা বের হতে পারেননি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি