অভিজাত এলাকা ও বস্তিবাসীর মিশেলে গঠিত ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসন বরাবরের মতোই এবারও নির্বাচনের আলোচনার কেন্দ্রে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন, মহাখালী, শাহজাদপুর ও ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানের মধ্যে।
শেষ মুহূর্তে নিজেই প্রার্থী হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তারেক রহমান। অপরদিকে আগেই প্রার্থী ঘোষণা করা জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে রয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির ঘোষিত প্রার্থী ডা. তাসনুভা জাবিন দল থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। আরও কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও ভোটের মূল সমীকরণ গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতকে ঘিরেই।
ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৮৩, নারী ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। শুধু কড়াইল বস্তিতেই ভোটার প্রায় ৪৫ হাজার। সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির ভোটও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এলিট শ্রেণি ও বস্তিবাসীর ভোটই হয়ে উঠেছে জয়-পরাজয়ের ট্রামকার্ড।
বস্তিবাসীরা আবাসন, পানি-গ্যাস ও মৌলিক সুবিধার প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা সুষ্ঠু ভোট, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত সমাজ চান। ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের কাছেও নিরাপত্তা বড় ইস্যু।
তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা বেশ উচ্ছ্বসিত। ইতিমধ্যে জনসভা, নির্বাচনি কমিটি ও থানা-ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্প গঠন করেছে দলটি। জামায়াতও প্রচারে পিছিয়ে নেই; ডা. খালিদুজ্জামান নিয়মিত অলিগলি ঘুরে ভোট চাইছেন।
অতীতে এই আসনে বিএনপির ফলাফল খুব স্বস্তিদায়ক না হলেও তারেক রহমানের প্রার্থিতায় ভোটের মাঠে নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে। কম ভোটার উপস্থিতির ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও এবার ঢাকা-১৭ নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ। অভিজাত এলাকা ও বস্তির ভোট—এই দুই মেরুর সমীকরণেই নির্ধারিত হবে আসনটির ভাগ্য।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়