1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন

গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা, গুম রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণ

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬

গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারি আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন। এ ছাড়া উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। এ তথ্য জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

কমিশনের তথ্যমতে, গুম তদন্ত কমিশনে মোট ১,৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১,৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এসবের মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানান, এখনো অনেকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আসছেন। তার মতে, গুমের প্রকৃত সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ভিক্টিম কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা বিদেশে চলে গেছেন। আবার কেউ কেউ অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।

কমিশন সদস্যরা জানান, বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। তারা বলেন, সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এটি স্পষ্টভাবে একটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ (পলিটিক্যালি মোটিভিটেড ক্রাইম) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা গুমের শিকার হয়ে জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানায় কমিশন। উল্লেখযোগ্য ভিক্টিমদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।

কমিশন সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজেই বহু গুমের ঘটনায় সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন। পাশাপাশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই রেন্ডিশনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সংঘটিত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। গণতন্ত্রের লেবাসে মানুষের ওপর কীভাবে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, এই প্রতিবেদন তার ডকুমেন্টেশন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, যারা এই নৃশংস ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং যারা তা সংঘটিত করেছে—উভয়ই আমাদের সমাজের অংশ। জাতি হিসেবে এই ধরনের নৃশংসতা থেকে চিরতরে বেরিয়ে আসতে হবে এবং যেন আর কখনো ফিরে না আসে সে জন্য কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবেদন সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যৎ করণীয় উপস্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ ছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের যেসব স্থান রয়েছে, সেগুলোর ম্যাপিং করার নির্দেশ দেন তিনি। কমিশনের তথ্যে উঠে এসেছে, বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও লাশ গুমের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থানের জন্য তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, তার সহায়তা ও মনোবল না থাকলে এই ঐতিহাসিক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না।

এ সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করে গুম সংক্রান্ত বিচার ও ভিক্টিমদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!