
ছুটির দিনের সকালে রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জন হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসে খবর পৌঁছায়। সংবাদ পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যে উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সকাল ১০টার দিকে সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।
নিহতদের মধ্যে কাজী ফজলে রাব্বি (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান রয়েছেন। সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বি ও রিশানের মরদেহ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত এই তিনজনের শরীরে দগ্ধের চিহ্ন নেই। চিকিৎসকদের ধারণা, ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড় এলাকায়। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তাদের আরেক সন্তান উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় সে প্রাণে বেঁচে গেছে।
নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন ১৪ বছর বয়সী রোদেলা আক্তার, যার মরদেহ লুবানা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫২ বছর বয়সী মো. হারিছ ও তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে মো. রাহাবেরও মৃত্যু হয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply