জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪৬৫ আসনের মধ্যে ২৩৭টি জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন সানায়ে তাকাইচি। পরে উচ্চকক্ষেও ২৪৮ আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন জিতে তিনি দেশের ১০৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।
তাকাইচির এই জয় জাপানি নারীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা দেশটির কঠোর পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তার নেতৃত্বে রক্ষণশীল রাজনীতি জেঁকে বসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, কারণ তাকাইচি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের অনুসারী এবং ব্রিটিশ আয়রন লেডি মার্গারেট থ্যাচারের অনুরাগী।
গত কয়েক দশক ধরে মুদ্রাস্ফীতিহীন অর্থনীতির পর জাপান এখন মূল্যবৃদ্ধির চাপের মুখে, যা জনগণের মধ্যে বিরোধী ও কট্টর ডানপন্থি দলের প্রতি সমর্থন বাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সোমবার ডানপন্থি জাপান ইনোভেশন পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে, ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
তাকাইচি দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙা করতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে, যা ইতিমধ্যেই বাজারে প্রভাব ফেলেছে—‘তাকাইচি ট্রেড’ নামে পরিচিত প্রবণতায় টোকিওর নিক্কেই ইনডেক্স নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বিনিয়োগকারীরা সরকারের ঋণ-নির্ভর ব্যয়ের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ দেশের মোট ঋণ বার্ষিক জিডিপির চেয়ে অনেক বেশি।
আইচি গাকুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক তাদাশি মোরি বলেন, তাকাইচির কাছে ক্ষমতা থাকলেও কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনার জন্য বিরোধী দলের আরও সমর্থন প্রয়োজন। এলডিপি ও ইশিন কোনো কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়; স্থিতিশীল সরকার এবং গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্টারি কমিটি নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্ধেকের বেশি আসন নিশ্চিত করতে হবে।
মোরি আরও বলেন, তাকাইচি যদি ‘অ্যাবেনোমিকস’ নীতি পুনরুজ্জীবিত করতে চান, তবে তা নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। অ্যাবেনোমিকস মূলত মুদ্রাস্ফীতিহীন অবস্থার জন্য তৈরি হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত প্রণোদনা কেবল ইয়েনকে দুর্বল করবে, এবং ভোগ-কর হ্রাস সাময়িক চাহিদা বাড়াতে পারে, তবে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করবে না।