
একীভূত হওয়া সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা আগামী সপ্তাহ থেকেই তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পেতে শুরু করবেন। প্রাথমিকভাবে আমানত বিমা স্কিমের আওতায় গ্রাহকরা একবারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, আমানত ফেরতের ক্ষেত্রে যেসব প্রক্রিয়াগত জটিলতা ছিল, তা দূর করা হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহের সোমবার ও মঙ্গলবার থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো অর্থ পরিশোধ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গ্রাহকরা নিজ নিজ ব্যাংকের শাখা থেকেই টাকা তুলতে পারবেন। তবে কোনো গ্রাহকের একটি ব্যাংকে একাধিক হিসাব থাকলে, তিনি একটি হিসাব থেকেই অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। আর একাধিক ব্যাংকে হিসাব থাকলে প্রতিটি ব্যাংক থেকেই নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ তোলার সুযোগ পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যেসব গ্রাহকের হিসাবে দুই লাখ টাকা বা তার কম জমা রয়েছে, তারা স্কিম কার্যকর হওয়ার পর পুরো অর্থ একবারেই তুলতে পারবেন। যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক এবং ক্যানসারসহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের ক্ষেত্রে এই সীমা শিথিল রাখা হয়েছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পরিমাণ অর্থ তুলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেয়। এসব অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির চাপেই একাধিক ইসলামী ব্যাংক গভীর সংকটে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর সেনা কল্যাণ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট জমার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে।
সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকায় অবস্থিত একাধিক শাখা কমিয়ে একটি বা দুটি শাখা রাখা হবে। ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় কমাতে এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন–ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply