দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ব্রাজিল-এর মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যে টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি মানুষ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টির পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জরুরি উদ্ধারকর্মীরা প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দিনরাত অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী লিভিয়া রোসা জানান, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য কাদার নিচে চাপা পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা গত রাত থেকেই এখানে আছি, কেউ মাটির নিচে বেঁচে আছে কি না তা দেখার জন্য। আশাই এখন শেষ ভরসা।”
কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে ভেসে আসা কাদা ও পলিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঢেকে গেছে। নদীর পানি স্বাভাবিক গতিপথ ছেড়ে শহরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
জুইজ দে ফোরা শহরের মেয়র মার্গারিদা সালোমাঁও জানান, এলাকায় অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে। রাতে প্রবল বৃষ্টির সময় অনেক মানুষ ঘরের ভেতরে ছিলেন।
এ ঘটনায় অন্তত ৪৪০ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কাছের শহর উবা-তেও আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ধার বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর দেমেত্রিয়াস গুলার্ত বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। তার মতে, এখনও জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা রয়েছে।
অঙ্গরাজ্যের উদ্ধার বিভাগের অন্তত ১০৮ জন সদস্য জুইজ দে ফোরায় এবং ২৮ জন উবায় উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
এদিকে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা দুর্গতদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, জরুরি সেবা পুনরুদ্ধার, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা এবং পুনর্গঠনে সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে।
মেয়র সালোমাঁও জানান, চলতি ফেব্রুয়ারিতে এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। মাত্র চার ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে—যা ছিল তীব্র, বিধ্বংসী ও অব্যাহত। এটিকে তিনি তার দায়িত্বকালের ‘সবচেয়ে দুঃখজনক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়