বাংলাদেশে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় জাপানি রেস্টুরেন্ট আইজাকায়া সফলভাবে ড্রোন ব্যবহার করে খাবার সরবরাহের প্রথম পরীক্ষাটি সম্পন্ন করেছে।
একদিনব্যাপী এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে প্রথমবারের মতো আকাশপথে দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে গ্রাহকের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ দেশের প্রযুক্তি ও খাদ্য শিল্পে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে ড্রোনভিত্তিক ডেলিভারির সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।
আইজাকায়া টিম জানিয়েছে, এই ট্রায়ালের মূল উদ্দেশ্য ছিল শেখা, পরীক্ষা করা এবং প্রযুক্তিগত সীমা অতিক্রম করা। তাদের ভাষায়, “আজকের এই ছোট্ট পদক্ষেপই ভবিষ্যতে ড্রোন ডেলিভারিকে একটি সাধারণ বাস্তবতায় পরিণত করতে পারে। আমরা সামনে আরও বড় কিছু দেখার অপেক্ষায় আছি।”
পরীক্ষামূলক এই ডেলিভারিতে বাস্তব পরিবেশে ড্রোনের GPS নির্ভুলতা, উড্ডয়ন স্থিতিশীলতা, প্যাকেজিং নিরাপত্তা এবং খাবারের তাপমাত্রা ধরে রাখার সক্ষমতা যাচাই করা হয়— যা ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে এই সেবা চালুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও সীমিত এলাকায় অল্পসংখ্যক গ্রাহকই এই সেবাটি উপভোগের সুযোগ পান, প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। অনেকেই বলেছেন, এটি ছিল দ্রুত, ঝামেলাহীন ও রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা— যা শুধু ডেলিভারির সময় কমায়নি, বরং যানজটে ভরা ঢাকার খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই উদ্যোগ বাংলাদেশের উদ্ভাবন, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল রূপান্তনের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন। যখন বিশ্বব্যাপী ড্রোন প্রযুক্তি দ্রুত মূলধারায় প্রবেশ করছে, তখন আইজাকায়ার এই পদক্ষেপ বাংলাদেশকেও সেই অগ্রযাত্রার কাতারে তুলে ধরছে।
আইজাকায়া বর্তমানে পরীক্ষার তথ্য ও গ্রাহক প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, যেন ভবিষ্যতে ড্রোন ডেলিভারি তাদের নিয়মিত সেবার অংশ হতে পারে। ইতোমধ্যেই পরবর্তী ধাপের পরীক্ষণ ও ধাপে ধাপে রোল আউটের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।
আইজাকায়া টিমের ভাষায়—
“আমরা ড্রোন ডেলিভারিকে শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন হিসেবে দেখি না, বরং এটি বাস্তব সমস্যার সমাধান— যানজট, বিলম্বিত ডেলিভারি এবং টেকসইতার চ্যালেঞ্জের কার্যকর উত্তর। আজ ছিল কেবল শুরু।”
ঢাকার আকাশে যখন এই ভবিষ্যৎমুখী পরীক্ষা চলছিল, তখন একটাই বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে— বাংলাদেশ এখন শুধু বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে না, বরং উদ্ভাবনের দৌড়ে উড়ছে আরও অনেক দূর।