
একসময় বাসাবাড়িতে উচ্ছিষ্ট হিসেবে ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ এখন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন খাতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে নিয়মিতভাবে রফতানি হচ্ছে এসব আঁশ।
খুলনায় আশার আলো
খুলনা শহরের বিভিন্ন বাজারে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ মাছের আঁশ সংগ্রহ ও শুকিয়ে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই খাত থেকে আয় হয়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকা।
সান্ধ্য বাজারের রুস্তম আলী বলেন, “আগে ফেলতাম, এখন শুকিয়ে বিক্রি করি। কেজি ৫৫–৬০ টাকায় ব্যবসায়ীরা কিনে নেয়।” অনেকে বছরে ১০–১২ মণ আঁশ বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।
রফতানি পরিসংখ্যান
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে দুই হাজার ৬৯৮ টন মাছের আঁশ, যার মাধ্যমে আয় হয়েছে ৩২ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৯ কোটি টাকা)।
খুলনা থেকে রফতানি হয়েছে ৫.৩৩ লাখ কেজি, আয় ৩.৪১ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম থেকে ১৯৫ টন, আয় ২.৫১ কোটি টাকা।
ঢাকা থেকে ১,৯১৩ টন, আয় ৩১.৫৯ কোটি টাকা।
বহুমুখী ব্যবহার
মাছের আঁশে থাকা কোলাজিন ও জেলটিন ব্যবহার হচ্ছে প্রসাধনী, ওষুধ, চোখের কর্নিয়া, ক্ষত সারানো ও পানি শোধনসহ নানা শিল্পে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শিকদার সাইফুল ইসলাম বলেন, “মাছের আঁশে প্রচুর প্রোটিন ও জৈব উপাদান আছে। যথাযথ প্রক্রিয়াজাত ও প্রশিক্ষণ দিলে এই খাত বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।”
সারসংক্ষেপে, অপচয় হওয়া আঁশ এখন স্বাবলম্বিতা ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনাময় সম্পদে রূপ নিচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply