শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের কাছে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এদিন জিয়াউল আহসানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও তার বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তারা প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে আসামির অব্যাহতি চান এবং দাবি করেন, জিয়াউলের বিরুদ্ধে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি প্রসিকিউশন।
এর জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দেওয়া দুজন সাক্ষীর বক্তব্য রয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, আগামীতে এ মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া সাক্ষ্য দেবেন। এ সময় জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গঠনের জন্যও ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ওই শুনানিতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়।
প্রসিকিউশনের আনা প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জন হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, একই সময়কালে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।
এসব অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনীত তিনটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল এবং একই দিন সকালে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়