ফিলিস্তিনে তীব্র শীতের মধ্যেই নতুন করে একটি ঝড় আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসরত কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
ইসরায়েলের টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গণহত্যামূলক যুদ্ধে গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের প্রায় সবাই নিজ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে তারা অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে অপ্রতুল ও ঝুঁকিপূর্ণ তাঁবুতে বসবাস করছেন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক চরম আবহাওয়ার প্রভাবে বাস্তুচ্যুত শিবিরে থাকা ১ লাখ ৩৫ হাজার তাঁবুর মধ্যে অন্তত ১ লাখ ২৭ হাজার তাঁবুই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শত শত হাজার বাস্তুচ্যুত পরিবার ছেঁড়া তাঁবু ও ছাদহীন ঘরে বৃষ্টি, ঠান্ডা ও হিমশীতল রাতের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ। শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রিফ্যাব্রিকেটেড মোবাইল ঘর ও নির্মাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। একই সঙ্গে জরুরি মানবিক সহায়তার প্রবাহও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল। তবে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে গড়ে প্রতিদিন মাত্র ১৪৫টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে।
চরম দুর্দশার মধ্যেও টিকে থাকতে ফিলিস্তিনিরা নিজেরাই বিভিন্ন উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁবু শক্ত করতে প্লাস্টিকের চাদর ব্যবহার, সব সময় গায়ে পোশাক পরে থাকা এবং জ্বালানি ও গরমের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁবুর ভেতর আবর্জনা জ্বালিয়ে উষ্ণ থাকার চেষ্টা করছেন তারা।
গত সপ্তাহে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানায়, ঠান্ডাজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। তাদের মধ্যে ২১ জনই শিশু। নিহত সবাই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি, যারা আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছিলেন।
এদিকে গাজার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শীতজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। চরম ঠান্ডার কারণে সহায়তার জন্য সংস্থাটি শত শত ফোন কল পাচ্ছে বলে জানান তিনি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়