1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নাকচ গ্রিনল্যান্ডের, ডেনমার্কের সঙ্গেই থাকতে চায় দ্বীপটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে গ্রিনল্যান্ড। দ্বীপটির নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র নয়—বরং ডেনমার্কের সঙ্গেই যুক্ত থাকতে চায়

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইন্স–ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হয়, তাহলে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ককেই বেছে নেবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে সতর্ক করেন, শক্তি প্রয়োগের হুমকি পুরো ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নিলসেন বলেন,
“আমরা এখন একটি গুরুতর ভূরাজনৈতিক সংকটের মুখে। এই মুহূর্তে যদি আমাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বেছে নিতে হয়, তাহলে আমরা ডেনমার্ককেই বেছে নেবো। আমরা সেই গ্রিনল্যান্ডকেই চাই, যেটি কিংডম অব ডেনমার্কের অংশ।”

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হওয়ার পরিকল্পনাও আপাতত স্থগিত রাখছে—নিলসেনের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, অর্থনৈতিক বা সামরিক—যে কোনো উপায়েই হোক তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান

বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে নিলসেন এসব মন্তব্য করেন। ওই বৈঠকের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকিতে লাগাম টানা এবং আর্কটিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রশমিত করা।

পরিস্থিতিকে ‘খুবই গুরুতর’ উল্লেখ করে নিলসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক হুমকি সম্পূর্ণ সীমা ছাড়িয়ে গেছে

নিলসেনের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, এই অবস্থান গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ‘বড় সমস্যা’ তৈরি করবে। তিনি বলেন, “আমি তার সঙ্গে একমত নই। আমি জানি না তিনি কে, কিন্তু এটা তার জন্য বড় সমস্যা হতে যাচ্ছে।”

গ্রিনল্যান্ড কি স্বাধীনতার আলোচনা পুরোপুরি পরিত্যাগ করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নিলসেন বলেন,
“এটা এখন একসঙ্গে দাঁড়ানোর সময়। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের সঙ্গেই রয়েছে এবং সাংবিধানিক কাঠামোর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।”

এই অবস্থানে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পাশে রয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ। আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে তারা সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো যায়।

এদিকে সোমবার রাতে মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পর জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইওহান ভাদেফুল বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে বলে তিনি আশাবাদী।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!