1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

দলিল নিবন্ধনে যুগান্তকারী পরিবর্তন: জারি হলো নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক, সময়োপযোগী ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ সংশোধন করে নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনে সময়সীমা বৃদ্ধি, ই-রেজিস্ট্রেশন চালু, ফি পরিশোধে নতুন নিয়ম এবং নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়, সংসদ ভেঙে যাওয়ায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেছেন। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ক-ছ-এর উপধারা (২)-এ উল্লিখিত দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধারা ২৬-এর অনুচ্ছেদ (খ)-এ উল্লিখিত সময়সীমা ৪ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস করা হয়েছে।

এছাড়া ধারা ৫২ক সংশোধনের মাধ্যমে হেবা ও দান নিবন্ধনের আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিক্রয়ের পাশাপাশি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী হেবা ঘোষণা এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইনের অধীনে দানের ঘোষণাকে নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘বিক্রেতা’ শব্দের সঙ্গে ‘অথবা দাতার’ শব্দ দুটি সংযোজন করা হয়েছে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রোধে ধারা ৬৮ সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি যথাযথ ফি, কর, সার্ভিস চার্জ বা শুল্ক আদায় না করে দলিল নিবন্ধন করেন, তবে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে আদায় করা হবে।

আপিল ও আবেদনের নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ধারা ৭২ সংশোধন করে উপধারা (১ক) সংযোজনের মাধ্যমে আপিল দাখিলের তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধারা ৭৩ সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।

অধ্যাদেশে নতুন অংশ দ্বাদশ(ক) সংযোজন করে ধারা ৭৭(ক) অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ই-রেজিস্ট্রেশন চালুর পথ সুগম করা হয়েছে। এর ফলে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে দলিল উপস্থাপন, নিবন্ধনের জন্য গ্রহণ এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল নিবন্ধন করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধি সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রণয়ন করবে।

এ ছাড়া ধারা ৮০ প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ধরনের ফি, কর, সার্ভিস চার্জ ও শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এসব অর্থ আদায়ের পদ্ধতি এবং সার্ভিস চার্জ ব্যবহারের বিষয়ে সরকার গেজেটের মাধ্যমে বিধি প্রণয়ন করবে। এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ডিজিটাল সেবা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!