1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

রোজার ইতিহাস ও বিধান: আদম (আ.) থেকে রমজানের ফরজ হওয়া পর্যন্ত

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রোজা ফারসি শব্দ; এর আরবি প্রতিশব্দ ‘সাওম’ বা ‘সিয়াম’, যার অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যৌনাচার, অশ্লীলতা, অন্যায় আচরণ ও যাবতীয় অপকর্ম থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ওপর রোজা ফরজ এবং এটি ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি।

প্রথম রোজা নিয়ে মতভেদ

ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোন রোজা ফরজ হয়েছিল— এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, ১০ মহররম তথা আশুরার রোজাই প্রথম ফরজ ছিল। আবার কেউ মনে করেন, আইয়ামে বিজ অর্থাৎ প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা প্রথমে ফরজ ছিল।

তবে কোরআনের ভাষ্যমতে, রোজার বিধান কেবল উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য নয়; পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের যুগেও তা বিদ্যমান ছিল।

ইতিহাসে প্রথম রোজা

ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, মানব ইতিহাসে রোজার সূচনা হয় হজরত আদম (আ.)–এর মাধ্যমে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘হে ইমানদাররা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা খোদাভীরু হতে পার।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)

তাফসিরবিদদের মতে, এখানে আদম (আ.) থেকে শুরু করে হজরত ইসা (আ.) পর্যন্ত সব নবী-রাসুলের যুগকে বোঝানো হয়েছে।

বর্ণনা আছে, জান্নাতে অবস্থানকালে আদম (আ.)-কে একটি নির্দিষ্ট গাছের ফল ভক্ষণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল— এটিকেই এক ধরনের রোজা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পরবর্তীতে ভুলের কারণে পৃথিবীতে আগমনের পর তিনি ও হাওয়া (আ.) অনুতপ্ত হয়ে তওবা করেন এবং কাফ্ফারাস্বরূপ দীর্ঘ সময় রোজা রাখেন।

অন্যান্য নবীদের যুগে রোজা

আদম (আ.)-এর পরবর্তী নবী-রাসুলদের সময়েও রোজার বিধান ছিল, যদিও পদ্ধতিতে ভিন্নতা দেখা যায়।

হজরত নুহ (আ.)–এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, তিনি ১ শাওয়াল ও ১০ জিলহজ ছাড়া প্রায় সারা বছর রোজা রাখতেন।
হজরত মুসা (আ.) তাওরাত লাভের আগে ৩০ দিন রোজা রাখেন, পরে আরও ১০ দিন পূর্ণ করেন।
হজরত ইদরিস (আ.) নিয়মিত রোজা পালন করতেন।
হজরত দাউদ (আ.) একদিন পরপর রোজা রাখতেন— যা উত্তম নফল রোজা হিসেবে পরিচিত।

ইসলামে রোজা ফরজ হওয়া

রাসুলুল্লাহ হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর আশুরার রোজা পালন করতেন। পরে দ্বিতীয় হিজরির ১০ শাবান রমজানের রোজা ফরজ করা হয়।

পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়:
‘হে ঈমানদাররা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারি (তাকওয়া) অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)

এর মাধ্যমে রমজান মাসের রোজা মুসলিম উম্মাহর জন্য বাধ্যতামূলক ইবাদত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!