
আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে (আফকন) শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যামেরুনকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক মরক্কো। ২০০৪ সালে তিউনিসিয়ার কাছে ফাইনালে হারের পর এবারই প্রথমবারের মতো শেষ চারে জায়গা করে নিল তারা।
রাবাতের প্রিন্স মৌলে আব্দেল্লা স্টেডিয়ামে ৬৪ হাজার দর্শকের সামনে উজ্জীবিত পারফরম্যান্স উপহার দেয় মরক্কো। ম্যাচের ২৬তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির নেওয়া কর্নার থেকে আয়ুব এল কাবিরের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে বল জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার ব্রাহিম দিয়াজ। আফকনের চলতি আসরে এটি ছিল তার পঞ্চম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে ৭৪তম মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন ইসমাইল সাইবারি। আব্দে এজ্জালজুলির বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পিএসভি আইন্দহোভেনের এই মিডফিল্ডার ব্যাকপোস্ট থেকে জালে বল পাঠান।
এই ম্যাচের মাধ্যমে মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আফকনের এক আসরে পাঁচ গোলের কীর্তি গড়লেন ব্রাহিম দিয়াজ। একই সঙ্গে শেষ ৫৭ বছরে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার অনন্য রেকর্ডও গড়েন তিনি।
সেমিফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হবে আজ (শনিবার) অনুষ্ঠিত আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়া ম্যাচের বিজয়ী দল। বুধবার অনুষ্ঠিতব্য ওই ম্যাচের অপেক্ষায় এখন মরক্কো শিবির।
ঐতিহাসিক জয়ের পর কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই সতর্ক থাকার বার্তা দেন। তিনি বলেন,
‘এক সময়ে একটা ম্যাচ ধরে আমাদের এগোতে হবে। এখনো আমরা কিছুই অর্জন করিনি।’
২২ বছর পর সেমিফাইনালে উঠে কোচ আরও বলেন,
‘২২ বছর ধরে মরক্কানরা আফকনে তাদের দলকে এই পর্যায়ে দেখেনি। এটা তাদের প্রাপ্য, তবে আমাদের পা মাটিতে রাখতে হবে এবং এই অর্জনকে আরও ঐতিহাসিক করে তুলতে হবে।’
আফ্রিকার শীর্ষ র্যাংকিংধারী দল মরক্কো ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও সেমিফাইনাল খেলেছিল। নিজ মাঠে ট্রফি জয়ের চাপ থাকলেও সে চাপ সামলেই এগোচ্ছে দলটি। ২০০৪ সালের ফাইনালের পর এবারই প্রথম সেমিফাইনালে উঠল তারা। আয়োজক হিসেবে শেষবার ১৯৮৮ সালে আফকনের সেমিফাইনালে খেলেছিল মরক্কো, যেখানে তারা ক্যামেরুনের কাছে হেরেছিল। তবে এবারে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির কোনো ইঙ্গিত দেখা যায়নি।
এখন বুধবারের সেমিফাইনাল ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে আছে মরক্কো।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply