1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষে তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ভারতের

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছেই তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিলিগুড়ি করিডোর এখন আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, নতুন ঘাঁটিগুলো স্থাপন করা হয়েছে আসামের ধুবড়ি জেলার বামুনি এলাকা, বিহারের কিশনগঞ্জ, এবং পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া অঞ্চলে। ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এটি দেশের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অংশ—যার লক্ষ্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা উন্নয়ন এবং কৌশলগত দুর্বলতা মোকাবিলা।

সিলিগুড়ি করিডোর বা “চিকেন নেক” হচ্ছে উত্তরবঙ্গের মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ভূখণ্ড, যা মূল ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যকে সংযুক্ত করে। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীন দ্বারা পরিবেষ্টিত এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত।

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন ধারা লক্ষ্য করেছেন। চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা নয়াদিল্লির নজরে এসেছে। তাদের মতে, এই পরিবর্তন আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যা সিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, সিলিগুড়ি করিডোর দুর্বল নয়—বরং এটি এখন ভারতের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়। নতুন ঘাঁটিগুলোর মাধ্যমে দ্রুত সেনা মোতায়েন, লজিস্টিক সহায়তাগোয়েন্দা সমন্বয় আরও কার্যকর হবে।

এই করিডোরের নিরাপত্তা পরিচালনা করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর “ত্রিশক্তি কোর” (৩৩ কোর), যারা নিয়মিত যুদ্ধাভ্যাস, লাইভ-ফায়ার মহড়া ও ট্যাঙ্ক অনুশীলন পরিচালনা করে। আকাশপথে প্রতিরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে হাসিমারা বিমানঘাঁটি, যেখানে রাফাল যুদ্ধবিমান, মিগ সিরিজ, এবং ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রয়েছে।

এ ছাড়া, এই অঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে তিন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র, ভারত-ইসরায়েল যৌথ উদ্যোগে তৈরি এমআরএসএএম সিস্টেম, এবং দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এসব মিলিয়ে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে সম্ভাব্য বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ভারত এখন আরও সক্ষম বলে দাবি সেনাবাহিনীর।

এস-৪০০ সিস্টেমের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনসহ সম্ভাব্য বৈরী দেশগুলোর বিমান অনুপ্রবেশ ঠেকানো। সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ১৬০ কোটি রুপি ব্যয়ে আরও দুটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা রেজিমেন্ট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে।

বাংলাদেশের বিআরআই (বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ) প্রকল্পে অংশগ্রহণ এবং ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের উষ্ণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। এক জ্যেষ্ঠ ভারতীয় সামরিক পরিকল্পনাবিদ বলেন,

“ভারত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি না, বরং নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের প্রতিরক্ষা শক্তি মজবুত করছি।”

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!