‘বেশি বেশি সবজি খাও, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হও, কৃষি ও কৃষকের পাশে দাঁড়াও’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে চাঁদপুরে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী দেশজ সবজি উৎসব। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুল প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবে অংশ নেওয়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ঝুড়ি ও ডালায় সাজিয়ে আনা দেশীয় সবজি প্রদর্শন করে এবং একে অপরকে সবজির নাম ও গুণাগুণ সম্পর্কে জানায়। শিশুদের দেশীয় সবজির প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং ক্ষতিকর চটকদার খাবার থেকে নিরুৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উৎসবে অংশ নেয়। এতে বরবটি, শিম, মটরশুঁটি, ফুলকপি, ব্রকলি, কুমড়া ও কুমড়া ফুল, কাঁচা কলা, কলাগাছের আইলকা, বিভিন্ন জাতের শাক, ধনেপাতা, লেটুস, বাঁধাকপি, সজিনা পাতা, লাউ, থানকুনি পাতা, গাজর, মূলা, শালগম, বিট, আলু, মেটে আলু, পেঁপে, টমেটো, বেগুন, চাল কুমড়া, করলা, কাকরোল, ঢেঁড়শ, পটল, শসাসহ ৩০টির বেশি দেশীয় সবজি প্রদর্শিত হয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা নতুন অনেক সবজির সঙ্গে পরিচিত হয়েছে এবং সবজির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পেরেছে। অভিভাবকরাও বলেন, একসঙ্গে এত দেশীয় সবজি দেখার সুযোগ শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় ও আনন্দদায়ক। এমন আয়োজন দেশের সব বিদ্যালয়ে হওয়া উচিত বলে তারা মত দেন।
বিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ মৃদুল কান্তি দাস ও অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, চাঁদপুরেই প্রথম এভাবে সবজি উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে দেশীয় সবজি চেনার সুযোগ পাচ্ছে।
অধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি দাস বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত জরুরি। অথচ বর্তমানে শিশুরা বেশি ঝুঁকছে ক্ষতিকর খাবারের দিকে। দেশীয় ফল ও সবজিতে থাকা ভিটামিন ও ঔষধি গুণাগুণ শিশুদের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সবজির প্রতি আগ্রহ তৈরির লক্ষ্যে এই উৎসব আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসব শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আনা সবজি দিয়ে রান্না করা খিচুড়ি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে পরিবেশন করা হয়।