ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল সপ্তমবারের মতো পেছানো হয়েছে। আদালত নতুন করে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)-এর তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠবারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন পেছানো হয়। সেদিন একই আদালত থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। তবে অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ।
গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ধার্য ছিল। সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চান মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। আদালত সময় মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
পরে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। এরপর আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা-এ ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।
১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের নাম উল্লেখ করা হয়। আসামিদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে—রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনি প্রচারণায় অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।








