মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সামরিক হুমকি ও পারমাণবিক চুক্তিতে বাধ্য করতে সম্ভাব্য ‘সীমিত হামলার’ পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মার্কিন চাপের মুখে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না। ইরানি প্যারালিম্পিক দলের সদস্যদের সম্মান জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করতে বাধ্য করার জন্য সারিবদ্ধ হচ্ছে, কিন্তু আমরা এই চাপের সামনে নতি স্বীকার করব না।”
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ওমান এবং গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ড–এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হলেও তাতে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, একটি কূটনৈতিক সমাধান এখনও সম্ভব এবং কয়েক দিনের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি ওয়াশিংটনে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ–এর পর এটিই সবচেয়ে বড় বিমান শক্তি মোতায়েন বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ১২০টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আরব সাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপে যোগ দিতে যাচ্ছে।
পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ–এ পাঠানো এক চিঠিতে ইরান জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ চায় না; তবে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ‘সিদ্ধান্তমূলক ও আনুপাতিক’ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, অর্থবহ কোনো চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু ঘটতে পারে’। তিনি ইরানকে চুক্তিতে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন এবং আলোচনায় চাপ তৈরি করতে সীমিত সামরিক পদক্ষেপের কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এ উত্তেজনার মধ্যে তেহরান–এর বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানকে পরাজিত করতে পারবে না।
আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় সুইডেন, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়