ইরানের সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (গতকাল) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইইউ’র পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান কাজা কালাস।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কাজা কালাস বলেন, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচার হত্যা ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদ হিসেবেই এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে যারা নিজেদের জনগণকে হত্যা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া ইইউ’র নীতিগত সিদ্ধান্ত।”
নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল বলেন, আন্দোলন দমনের নামে ইরান যে নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে, তা সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে। রক্তপাতের প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত।
আইআরজিসি ইরানের একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী বাহিনী, যার সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বাহিনীটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। প্রায় দুই লাখ সক্রিয় সদস্য ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তেহরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিত্র সরকারগুলোকে অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এর আগে ২০২৪ সালে কানাডাও আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানপ্রবাসী ও বিরোধী রাজনীতিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সে সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়