
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। টানা পাঁচ দিন সিসিইউতে থাকা গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া গত বুধবার থেকে প্রায় সাড়াহীন ছিলেন। তিন দিন পর গতকাল শনিবার সকালে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেছেন—চিকিৎসক ও পরিবার–ঘনিষ্ঠ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সচেতন থাকলেও শারীরিক অবস্থার জটিলতা এখনো বিদ্যমান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত তিন দিনের তুলনায় সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও সামগ্রিক সংকট কাটেনি। বিশেষ করে কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় তাঁকে চার দিন ধরে টানা ডায়ালাইসিসে রাখতে হচ্ছে। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাঁর অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছিল।
শুক্রবার রাত থেকে সামান্য অগ্রগতি দেখা গেলে শনিবার সকালে পুত্রবধূ শামিলা রহমানের সঙ্গে তিনি কয়েকটি কথা বলেন। চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিমানযাত্রার ধকল সহ্য করার মতো শারীরিক সক্ষমতা আছে কি না—এ বিবেচনাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
সূত্র জানায়:
সম্ভব হলে তাঁকে লন্ডনের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হবে।
তা সম্ভব না হলে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল বিবেচনায় রয়েছে।
তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন—খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা বিদেশ যাত্রার জন্য উপযুক্ত নয়।
ডায়ালাইসিস চলমান থাকলেও শরীরের পানি নিয়ন্ত্রণে না আসায় অবস্থার অবনতি ঘটে।
কয়েক দিনের ডায়ালাইসিস শেষে স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন করে নতুন চিকিৎসা পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন—এখনো যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিবিড়ভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। শুক্রবার রাতের আড়াই ঘণ্টার আলোচনায় মেডিকেল বোর্ড বিদেশে জরুরি চিকিৎসার পরামর্শ দেয়। পরিবারের পক্ষ থেকেও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে মির্জা ফখরুল বলেন—
“সব প্রস্তুতি থাকলেও তাঁর শরীর এখন সে ধকল নেওয়ার মতো নয়।”
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকায় চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল অনুরোধ করেছেন—
“হাসপাতালে ভিড় করবেন না। এতে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।”
বিএনপি, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজ নিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তারেক রহমান সবার দোয়া ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply