রাজধানীতে সব মোবাইল মার্কেট বন্ধ থাকায় ক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বসুন্ধরা সিটি মোবাইল মার্কেটসহ ঢাকার বিভিন্ন বিপণিবিতানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেলেও মূল ফটকে গিয়ে জানতে পারছেন মার্কেট বন্ধ থাকার কথা। বিশেষ করে মোবাইল সার্ভিসিং, নতুন ফোন কেনা বা দেখতে আসা অনেকেই বিপাকে পড়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দুপুরের পর বসুন্ধরা সিটির মূল ফটকে দেখা যায়, মোবাইল সিটি মার্কেট সম্পূর্ণ বন্ধ। ক্রেতারা ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে কারণ জানতে আলোচনা করলেও কোনো দোকান খোলা হয়নি। একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে মোতালেব প্লাজা ও স্টার্ন প্লাজায়।
এদিকে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) ঘোষণা দিয়েছে যে সারা দেশে সব মোবাইল ফোন বিক্রির দোকান আজ বন্ধ থাকবে। ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই সিদ্ধান্ত জানান। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ সুমাশটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এমবিসিবির সেক্রেটারি আবু সাঈদ পিয়াসকে মিরপুর-১ এলাকার বাসা থেকে নিয়ে গেছে। তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া চৌধুরী জানান, রাত তিনটার দিকে ডিবি পুলিশ তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা বলেন, কোনো অভিযোগ ছাড়াই একজন ব্যবসায়ীকে রাতে গ্রেপ্তার করা হবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি করেন, আজকের মধ্যেই পিয়াসকে মুক্তি না দিলে তারা সারা দেশে কঠোর আন্দোলনে নামবেন এবং প্রয়োজনে দেশ অচল করে দেওয়ার কর্মসূচিও নিতে বাধ্য হবেন। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ২০ থেকে ২৫ হাজার ব্যবসায়ীর ওপর হঠাৎ চাপ সৃষ্টি করে কোনো সমাধান আনা সম্ভব নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের উচিত ছিল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা।
সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যা কার্যকর হলে অনিবন্ধিত, চুরি হওয়া বা অননুমোদিত আমদানির মোবাইল ফোন দেশের কোনো মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যাবে না। এই ব্যবস্থা চালুর প্রাক্কালে বাজারে অভিযান ও একজন ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়