ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শেষ মুহূর্তে ১০ শতাংশ ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। তার দাবি, অনেক আসনকে টার্গেট করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। “শেষ মুহূর্তে ১০ শতাংশ ভোটে কারচুপি হয়েছে,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটে জয়ী দলের প্রতিও অভিযোগ তুলে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, তারা যে পরিকল্পনার কথা শুনেছেন, সেটিই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ থাকবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনে মূলত দুটি পক্ষ ছিল—একটি পক্ষ সংস্কারের পক্ষে, অন্যটি পুরোনো বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে চায়। তার ভাষ্য, জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও ফলাফল সেই অনুযায়ী প্রতিফলিত হয়নি।
একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে তারা স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং দেশ স্থিতিশীল হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক।
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণের সময় পরিস্থিতি ভালো দেখালেও গণনার সময় উল্টোভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তার মতে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল প্রতিফলিত হয়নি।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধ্বংস করা হলে আমরা কম্প্রোমাইজ করব না।” জনগণের রায়কে অশ্রদ্ধা দেখানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে বলে তারা আশা করছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়